Tuesday, April 3, 2018

ব্যক্তিগত উন্নয়নের ১১ টি প্রফেশনাল উপায়


আমরা জন্মগত ভাবে সব কিছু শিখে আসি নাই। আমাদের চলার পথে অনেক কিছু শেখা হয়েছে। সেখানে ছিল অনেক ভুল, সঠিক গাইডলাইনের অভাব, পদ্ধতিগত ভুল সহ আরো অনেক কিছু। আমরা যারা একটু ভাল পরিবেশ, ভাল শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পারিবারিক অবস্থা ভাল ছিল তারা অন্যদের চেয়ে ব্যক্তিগত উন্নয়নের দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে।
আমাদের মাঝে অনেকেই আছে যাদের সাথে কথা বলতে, কথা শুনতে,  সময় কাটাতে আমাদের ভাল লাগে। তাই আমাদের মাঝে এমন কিছু আছে যা আমরা উন্নতি করা প্রয়োজন। মানুষের মাঝে অনেক গুনাবলি রয়েছে যা মানুষ উন্নতি করার মাধ্যমে ব্যক্তিগত অনেক কিছু অর্জন করতে পারে।
আজকে কতা বলব ব্যক্তিগত উন্নয়নের ১১ টি প্রফেশনাল উপায় যা আমাদের ব্যক্তিগত এবং প্রফেশনাল জীবনে অনেক কাজে আসবেঃ

১। প্রতিদিন একটি বই পড়ুনঃ

কেননা বই জ্ঞান প্রসারের উৎস। আপনি যত বই পড়বেন আপনার জ্ঞান তত বৃদ্ধি পাবে।  আপনি কাদের বই পড়বেন? আপনি পড়তে পারেন ইতিবাচক বই সমূহ। যা আপনাকে ইতিবাচক চিন্তা করতে এবং কাজ করতে সহায়তা করবে।

২। নতুন কোন শখ খুজে বের করুনঃ

আপনার স্বাভাবিক শখ ছাড়া এমন নতুন কোন কিছু আছে কি যা আপনি বাছাই করতে পারেন? আপনি নতুন কোন খেলা শিখতে পারেন যা আগে আপনার ততটা খেলা হয় নাই। আপনার নতুন শখ বিনোদনমূলকও হতে পারে। আবার হতে পারে অ্যাডভেঞ্ছারমূলক কিছু যেমনঃ ফটোগ্রাফি। আজকাল অনেকেই ফটোগ্রাফি কে পেশা হিসেবে নিয়েছে। আপনি না হয় আপনার মোবাইল ফোনটি দিয়ে শুরু করতে পারেন। আপনার এই নতুন শখটি আপনাকে শারিরিক এবং মানুষিক অনেক দিক দিয়ে প্রসারিত করবে।

৩। নতুন কোন দক্ষতা বাড়াতে পারেনঃ

আপনি বর্তমানে যে কাজটি করছেন সেটার নিশ্চয় আরো উন্নতি করার অনেক ধাপ রয়েছে। আপনি আপনার দক্ষতার পরবর্তী স্টেপ অর্জনের জন্য কাজ করতে পারেন। যেমনঃ আপনি একজন ক্রিকেটার এবং আপনি অফ সাইডে খেলতে বেশি পছন্দ করেন এবং আপনি ভাল পারেন। আপনি লেগ সাইডে খুব একটা ভাল খেলতে পারেন না। তাহলে আপনার সেটা হল কিভাবে লেগ সাইডে ভাল খেলা যায় সেই বিষয়ে মনোযোগ দেয়া।

৪। প্রতিদিনের কাজের তালিকাঃ

প্রতিদিনের কাজের তালিকা আপনার কাজ গুলো যেমন শেষ করতে সাহায্য করবে তেমনি আপনি কাজে অনেক মনুযোগী হয়ে উঠবেন। আপনি আগামী কাল কি কি কাজ করতে চান অথবা আপনাকে করতে হবে তার একটা টু-ডু লিস্ট করে আপনার টেবিলে রেখে দিতে পারেন। তাহলে সকালে ঘুম থেকে উঠেই আপনি দিনের কাজ শুরু করে দিতে পারবেন। এটা আপনার মাঝে এক ধরনের নিয়মানুবর্তিতা গঠনে সহায়তা করবে।

৫। নতুন কোন কোর্সে ভর্তি হতে পারেনঃ

দক্ষতা লাভের একটি চমৎকার উপায় হল নতুন কোন কোর্সে ভর্তি হওয়া। দীর্ঘমেয়াদি কোর্স হতে হবে না, আপনি বিভিন্ন ওয়ার্কশপ, সেমিনারে অংশগ্রহণ করতে পারেন। এ থেকে আপনি নতুন অনেক বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন। এমন অনেক বিষয় আপনি জানতে পারবেন যা আপনি আগে কখনো বিবেচনা করেন নাই।

৬। ভোর বেলায় ঘুম থেকে উঠুনঃ

আমরা সবাই জানি খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠা স্বাস্থ্যের জন ভাল। ভোর বেলায় ঘুম থেকে উঠলে দেখবেন দিনটা আপনার কাছে অনেক বড় মনে হবে এবং আপনি সকালেই অনেক কাজ শেষ করে ফেলেছেন। এই অভ্যাস আপনার মাঝে নতুন কিছু সৃষ্টি করবে। আপনি যদি অনেক দিন হল সকালে ঘুম থেকে না উঠে থাকেন, তাওলে আজকেই সিদ্ধান্ত নিন আগামীকাল সকালে ঘুম থেকে উঠবেন। ঘুম থেকে উঠে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ুন। দেখবেন সকালটা আপনার কাছে কত ভাল লাগছে এবং পাশাপাশি আপনার ব্যায়ামও হয়ে যাবে।

৭। পজিটিভ চ্যালেঞ্জ নিতে পারেনঃ

আপনি যদি আপনার বর্তমান অবস্থান থেকে সবচেয়ে ভাল ফলাফল নিতে চান তাহলে আপনাকে চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি সাহায্য করতে পারে। চ্যালেঞ্জ নিলে আপনি কাজের প্রতি অনেক বেশি মনোযোগি হবেন এবং পরিশ্রমী হবেন। খুজে বের করুন কে আপনার কম্পিটিটর। প্রয়োজনে আপনি তাকে জানিয়ে দিন যে আপনি একটা সুনির্দিষ্ট বিষয়ে তাকে হারাতে চান।

৮। পদক্ষেপ নিনঃ

আপনি আমি অনেক কিছু করতে চাই বা হতে চাই কিন্তু কাজ করতে প্রস্তুত নয়। আপনাকে কোন কিছু শেখা বা উন্নয়ন করার সবচেয়ে ভাল উপায় হল পদক্ষেপ নেয়া বা সরাসরি কাজে মনোনিবেশ করা। মনে রাখবেন আপনারা কাজ ই আপনার কাজ কে শেষ করতে বেশি সাহায্য করবে। শুধু অপেক্ষা করলে আপনার কোন কিছু হবে না, যদি না আপনি পদক্ষেপ নেন। তাই আপনি যা পরিকল্পনা করেছেন তার দ্রুত কাজ শুরু করুন।

৯। যারা আপনাকে উৎসাহিত করে তাদের কাছ থেকে শিখুনঃ

আপনি যাদের প্রশংসা করেন তাদের কথা চিন্তা করুন। যাদের দ্বারা আপনি প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত হউন। তাদের মাঝে নিশ্চয় এমন কিছু আছে যা আপনার মাঝে নেই। তাহলে আপনি তাদের কাছ থেকে শিখুন। মানুষ তো মানুষের কাছ থেকেই শিখে। এতে বরং আপনারই লাভ হবে।

১০। খারাপ অভ্যাস ত্যাগঃ

আপনার যদি কোন বদ অভ্যাস থেকে তাকে তাহলে তা পরিহার করার চেষ্টা করুন। এটা হতে পারে আপনার আরেকটা চ্যালেঞ্জ। যা অর্জনে আপনাকে অনেক বেশি ব্যক্তিগত উন্নয়নে সহায়তা করবে। এবং একটি ভাল অভ্যাস শুরু করুন। যেমনঃ নামাজ পড়া। দেখবেন আপনার মাঝে এমন কিছু বিষয় কাজ করছে যা আপনি আগে অনুভব করেন নাই।

১১। ব্যক্তিগত উন্নয়নে সচেতন হোনঃ

আপনার মাঝে যে সকল গুনাবলি আছে আর যে সকল গুনাবলি নেই তার একটা আনুমানিক লিস্ট করুন। চাইলে আমাকে আপনি ইমেইল করতে পারেন। আমি চেষ্টা করব আপনাকে সাহায্য করতে। কিন্তু কোন কিছুই কাজে আসবে না যদি না আপনি নিজে ব্যক্তিগত উন্নয়নে সচেতন হোন। আপনাকে সংকল্পব্ধ হতে হবে যে “আমি এই বিষয় গুলো আমার মাঝে চাই এবং এই বিষয়গুলো পরিহার করতে চাই। তাহলেই আপনার ব্যক্তিগত উন্নয়ন অনেকটা সহজ হয়ে যাবে।
উপরের বিষয়গুলো আপনি ফলো করলে আমি নিশ্চিত বর্তমানের আপনি আর এর পরের আপনির মাঝে অনেক তফাৎ দেখা যাবে।

অনলাইনে পড়ালেখা এবং কোর্স করার জন্য বেস্ট কিছু সাইট

আসসালামু আলাইকুম,
আপনার যদি পিসি/ল্যাপটপ/স্মার্টফোন থাকে সাথে ইন্টারনেট কানেকশন তাহলে আপনি পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে বসে, যে কোন সময় আপনার পছন্দের বিষয়ে পড়ালেখা বা কোর্স করতে পারবেন।
অনলাইনে স্টাডি বা কোর্স এখন বেশ জনপ্রিয়, আমাদের দেশেও দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এখন আর কোন কিছু শেখার জন্য আপনাকে বাইরে যেতে হবে না, ঘরে বসেই আপনি আপনার পছন্দের যে কোন বিষয়ের উপর কোর্স করতে পারবেন। অনলাইনে স্টাডি এবং কোর্সের সাইট এবং প্রতিষ্ঠানগুলো পৃথিবীর সব দেশের সব রকম মানুষের জন্য উন্মুক্ত। সেই সাইটগুলোতে প্রত্যেক বিষয় আপনাকে সহজভাবে বোঝানোর জন্য রয়েছে বিভিন্ন দেশের এক্সপার্টরা। আপনি তাদের সকল লেকচার গুলো সেখানে পাবেন। এবং যে কোন সমস্যার সমাধানের জন্য তাদের সাহায্যও পাবেন।
তবে কিছু সাইটে কোর্সের জন্য আপনাকে টাকা খরচ করতে হবে, আবার অনেক কোর্স রয়েছে যেগুলো আপনি বিনামূল্যেই সম্পূর্ণ করতে পারবেন।
আপনার কোর্সের প্রস্তুতি শেষে নির্ধারিত সময়ে আপনাকে অনলাইনে পরীক্ষা দিতে হবে, এরপর পরীক্ষা এবং কোর্স শেষে আপনি সেই কোর্সের ফলাফল এবং সার্টিফিকেট পেয়ে যাবেন।
এমন অনেকেই রয়েছে যারা অনলাইনে কোর্স করে, সার্টিফিকেট বা ডিগ্রিধারিদের সাথে সমান তালে কাজ করে যাচ্ছেন।
অনলাইনে অনেক সাইট রয়েছে যেখানে থেকে আপনি আপনার পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়ালেখা বা কোর্স করতে পারবেন।
আজকে আমার দেখা তেমনই কিছু বেস্ট অনলাইন সাইট নিয়ে আলোচনা করবো।

Khan Academy
এটা সম্পূর্ণ নন প্রফিট অনলাইন প্লাটফ্রম। এখানে সবকিছুই আপনি বিনামূল্য পাবেন।

Edx
এখানে শীর্ষ অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠানের কোর্সগুলো পাবেন। edx হল একমাত্র নন প্রফিট ওপেন সোর্স MOOC (Massive Open Online Courses)
এর সাথে Harvard, MIT, Berkley, the University of Maryland, the University of Queensland সহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

Alison
Alison একটি অনলাইন লার্নিং রিসোর্স যা বিনামূল্যে, কোর্স, শিক্ষা পরিষেবা এবং কমিউনিটি সাপোর্ট প্রদান করে। বিশ্বজুড়ে ১৯৫টি দেশের প্রায় ১১ মিলিয়নের বেশি শিক্ষার্থী, ১.৫ মিলিয়ন গ্র্যাজুয়েট এবং ১০০০টির বেশি কোর্স এখানে রয়েছে।

Lynda
প্রায় ৮০হাজার ভিডিও রয়েছে বিভিন্ন বিষয়ের উপর। এখানে আপনি আপনার পছন্দমত যে কোন কোর্স বেছে নিতে পারবেন।
এখানে আপনি ৩০দিনের জন্য ফ্রি ট্রায়াল করতে প্রাবেন, এরপর আপনাকে বেসিক মেম্বারশিপের জন্য ২০ডলার এবং প্রিমিয়াম মেম্বারশিপের ক্ষেত্রে ৩০ডলার খরচ করতে হবে।

Udemy
এই সাইটে বিভিন্ন টপিকের উপর অনেক ক্যাটাগরি রয়েছে, আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী কোর্স বেছে নিতে পারেন, এখানে প্রায় ৬৫হাজার অনলাইন কোর্স রয়েছে। কোর্স ফি ১১ডলার থেকে শুরু।

Coursera
বিশ্বর শীর্ষ সব বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠানের কোর্সগুলো এখানে পাবেন। প্রায় ২হাজারের বেশি পেইড এবং ফ্রি কোর্স রয়েছে। coursera এর সাথে যৌথভাবে কাজ করছে University of Pennsylvania, Stanford University, the University of Michigan সহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান।

Openculture
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের টপ সব ইন্সটিটিউশনের অনেক কোর্স পাবেন এখানে প্রায় ১৩০০ কোর্স রয়ছে, ৪৫হাজার ঘন্টা অডিও এবং ভিডিওর লেকচার যা সম্পূর্ণ ফ্রি।

Tuts+(Plus)
এখানে প্রায় ২৫হাজার টিউটোরিয়াল এবং ১১০০ টির বেশি কোর্স রয়েছে।
এখানে কোন ফ্রি ট্রায়াল নেই, এখানে মেম্বারশিপের জন্য আপনাকে মাসিক ২৯ডলার খরচ করতে হবে।

অনলাইনের এই সাইট গুলো সম্পর্কে আরো তথ্য জানার জন্য সাইটগুলোতে ভিজিট করুন। এবং পরিচিত যারা রয়েছে তাদের কাছ থেকে মতামত নিন। 
যে কোন রকমের তথ্য/সাহায্য বা সমস্যার জন্য গুগলের সাহায্য নিন।

‘পাই’ π কাকে বলে জানো?

ক্লাশ সিক্স বা তার ওপরে যারা পড়ো তারা অনেকেই হাত তুলবে জানি। ওইটা অংক ক্লাশের একটা বিটকেল জিনিস যেটা দিয়ে বৃত্তের পরিধি, ক্ষেত্রফল এইসব মাপে। এককথায় অংকের যন্ত্র বা টুল একটা।
শোনো বলি তবে। ‘পাই’ কিন্তু অত তুচ্ছ জিনিস নয়। ওর মধ্যে বিরাট এক রহস্য রয়েছে। কিছু একটা ম্যাজিক কাজ করে ওতে। যতবড়োই বৃত্ত হোক না কেন, তারপরিধিকে ব্যাস দিয়ে ভাগ করলে তার মান সবসময় ওই ‘পাই’ এর সমান হয়। তোমার চোখের মণিতে যে হিসেব, গোটা সূর্যটাও সেই একই হিসেব মেনে চলে। একই হিসেব মেনে চলে ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ ছাড়া দেখা যায় না এমন ছোট ডিএন এ তন্তুর প্যাঁচগুলোও, মেনে চলে আলোকতরঙ্গ, শব্দতরঙ্গেরা, মেনে চলে পুকুরে ঢিল ফেললে তার থেকে তৈরি হওয়া গোল তরঙ্গের দল।
শুধু কি বৃত্তের মাপ?.
‘পাই’ আরো অনেক আশ্চর্য জায়গায় দেখা দেয় এসে। যেমন ধরো, তুমি যদি বেশ কয়েকটা পূর্ণসংখ্যা এলোমেলোভাবে বেছে নিয়ে একজায়গায় রাখলে। তারপর তার থেকে যেকোন দুটো পূর্ণসংখ্যা তুললে চোখ বন্ধ করে। এবারে মজাটা হবে এই যে অংক কষলে দেখা যাবে যে দুটো সংখ্যাই তুমি এভাবে বেছে তোলো না কেন, তাদের দুটোকেই ভাগ করা যায় এমন কোন সংখ্যা না থাকবার চান্স সবসময় হবে (৬/π২)। কী করে হ য়? কেউ জানে না। .
আরো আছে। ধরো একটা নদী। সে চলেছে এঁকেবেঁকে পাহাড় থেকে সমুদ্রের দিকে। তুমি চললে তার দৈর্ঘ্য মাপতে। যদি তুমি দুটো মাপ নাও, একটা হল তার আঁকাবাঁকা স্রোতের মোট দৈর্ঘ্য আর অন্যটা তার উৎসবিন্দু থেকে মোহানাবিন্দুর সরলরেখার দৈর্ঘ্য তাহলে দুনিয়ার সব নদীর জন্যই তার মান হবে ওই π
বোঝাই যাচ্ছে প্রকৃতির নানান বস্তুকে আর তার রহস্যকে বোঝবার জন্যে যত অংক তাতে এই ম্যাজিক নম্বরটার কী বিশাল ভূমিকা। অতএব তার মান বের করতে হবে। চলো শুরু করা যাক। লাগবে একটা সুতো আর একটা স্কেল। কৌটোর ঢাকনা দিয়ে কাগজের গায়ে গোল ছাপ দাও একখানা। তারপর গোলবরাবর সুতো ফেলে পরিধিটা মেপে নাও তার। এবারে বৃত্তটার ঠিক মাঝখানের বিন্দুর ওপর দিয়ে তারপরিধির এপাশ থেকে ওপাশ অবধি লম্বা করে সুতো ফেললেই বেরিয়ে আসবে ব্যাস। তাকেও স্কেলে মেপে নাও।
এবারে প্রথমটাকে দ্বিতীয়টা দিয়ে ভাগ করলেই পাই এর মান—
দাঁড়াও দাঁড়াও। এইবারেই তো খেলা শুরু।
ভাগটা শুরু করলে ধরো। প্রথমে পাবে তিন। দেখবে একটু ভাগশেষ থাকছে। কোই বাত নেহি। একটা দশমিক বসিয়ে শূন্য টেনে এনে ফের করো, আসবে ১। ফের একটু ভাগশেষ থাকবে। মানে নিখুঁত ভাগফলটা পাওয়া যাবে না। এমনিভাবে করতে থাকো, করতেই থাকো—ভাগটা কোনদিন শেষ হবে না। প্রকৃতির এই ম্যাজিকটা, চোখের তারা, সূর্য, মৌলিক সংখ্যার হিসেব কিংবা নদীর দৈর্ঘ্য যেমন সমস্তকিছুকেই যে সংখ্যাটা নিয়ন্ত্রণ করে কিছুতেই তার পুরোপুরি নিখুঁত মান ধরা দেবে না তোমার কাছে। অথচ বিশ্বটাকে ঠিকঠাক মেপেজুপে ফেলতে হলে, তাকে এক্কেবারে ঠিকঠাকভাবে জানতে হলে ও সংখ্যার নিখুঁত মাপ না জানলে চলবেই না। তাহলে উপায়?
মানুষ তার সভ্যতার একেবারে শুরুর দিক থেকেই ক্রমাগত তাই ‘পাই’কে সবটা না হলেও যত বেশি নিখুঁতভাবে ধরা যায় সেই চেষ্টা করে চলেছে। প্রাচীন মিশরীয়রা তার মান বের করতে পেরেছিল মাত্রই দশমিকের পর দু ঘর অবধি—৩.১৪। তার ফলে ওই সম্পর্কিত সমস্ত মাপজোকের ভুলকে তারা একশো ভাগের এক ভাগের কমে নামাতে পেরেছিল। কিন্তু মহাবিশ্বের নানান রহস্যকে সঠিকভাবে হিসেব করে বোঝবার চেষ্টা করতে গেলে সে ভুলটাও অনেক সময় মারাত্মক হয়ে ওঠে। ওর পরে এক এক ঘর মান বের করতে পারা মানে সেই ভুলের পরিমাণটাকে দশের গুণিতকের হারে কমিয়ে আনা। মানে ৩.১৪ এর পর কোন সংখ্যাটা রয়েছে সেইটে খুঁজে পেলে মানেই হিসেবের ভুলের পরিমাণ কমে গিয়ে হল হাজার ভাগের এক ভাগ।
এখন কমপিউটার আবিষ্কার হবার পর সে মানটা অনেক নিখুঁতভাবে বের করা গেছে। ৩ এর পর দশমিকের পর ৫ ট্রিলিয়নখানা সংখ্যা অবধি যেতে পেরেছে আমাদের কমপিউটাররা। কিন্তু তবু সে ভাগের শেষ মেলেনি। কে জানে, মহাবিশ্বের কোন এক বিরাট রহস্য হয়ত লুকিয়ে আছে ওর মধ্যে।
কিন্তু সভ্যতার যখন সূচনা ঘটছে তখন না ছিল কমপিউটার, না ছিল সুক্ষ মাপজোক করবার মত অংক বা যন্ত্রের হদিশ।
সেই সময়ে বসে আর্যভট একখানা প্রায় অসাধ্যই সাধন করে ফেলেছিলেন বলতে পারো। তিনি পাই এর যে মানটা বের করতে সক্ষম হয়েছিলেন তাতে ভুলের পরিমাণ ছিল দশ হাজার ভাগের এক ভাগ মাত্র। পাই-এর মান তাঁর হিসেবে এসেছিল ৩.১৪১৪৬ (এর প্রথম চার ঘর নিখুঁত আর শেষ ঘরটা মোটামুটি আনুমানিক)। আপাতদৃষ্টিতে এই ছোট্টো কাজটা কিন্তু পাই দিয়ে দুনিয়ার নানান মাপজোকের শাস্ত্রটায় ভুলের পরিমাণকে দশ হাজার ভাগের এক ভাগে নামিয়ে আনতে পেরেছিল। কেমন ম্যাজিক?
আজ তবে এই অবধি রইল।

Thursday, February 19, 2015

ভালোবাসা নিয়ে কিছু কথা

ভালোবাসা হয় ভালোবাসায়।এখানে ফাস্ট লাভ, সেকেন্ড লাভ, থার্ড লাভ  আসে কিভাবে? আমি তো জানি ভালোবাসা আসে অন্তর থেকে... মেয়েদের পিছে ঘোরা ঘুরি থেকে নয়!

একবার মন থেকে ভালোবাসেন, দেখবেন কল্পনার মানুষটা যাকে কখনও দেখেন নি! কিন্তু তার জন্য ভালোবাসার কমতি হবে না॥